ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
আইন দর্পণ
Topic Ads 1
ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে স্বর্ণ-আইফোনসহ প্রায় দেড় কোটির মালামাল জব্দ

ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে স্বর্ণ-আইফোনসহ প্রায় দেড় কোটির মালামাল জব্দ

ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একই দিনে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের (সিআইআইডি) পৃথক দুটি সফল অভিযানে ৭৩৩ গ্রাম স্বর্ণ, যার মধ্যে রয়েছে স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কার, এবং একটি আইফোন আটক করা হয়েছে। আটককৃত পণ্যের শুল্ককরাদিসহ প্রদত্ত আনুমানিক মোট মূল্য ১ কোটি ৩৯ লাখ ৪১ হাজার ১৬৭ টাকা। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামে পরিচালিত পৃথক অভিযানে এসব পণ্য আটক করা হয়। চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টমস গোয়েন্দার অব্যাহত নজরদারি ও তৎপরতায় একই দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।  শাহজালালে গ্রিন চ্যানেলে কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযান: ৬১ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও আইফোন আটক  হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের বি-শিফটের কর্মকর্তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন। এ সময় কুয়ালালামপুর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নম্বর বিএস-০৩১৬ যোগে আগত যাত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমকালে তার ব্যাগেজ সন্দেহজনক মনে হলে কর্মকর্তারা বিধি মোতাবেক ইনভেন্টরি ও পরীক্ষা করেন। পরীক্ষাকালে ২৯৯ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি আইফোন ১৮ প্রো-ম্যাক্স আটক করা হয়। আটককৃত পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৬১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৭ টাকা। চট্টগ্রামে জুতার ভেতরে স্বর্ণ লুকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না: দুই যাত্রীর কাছ থেকে ৪৩৪ গ্রাম স্বর্ণ আটক অপরদিকে একই দিনে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের কর্মকর্তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রিন চ্যানেলে বিশেষ নজরদারি জোরদার করেন। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে দুবাই থেকে আগত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নিজি-১৪৮ ফ্লাইটের যাত্রী তানবীর হাসান রিফাত শুল্ক ঘোষণা ছাড়াই গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমকালে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বর্ণ বহনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কাস্টমস হলরুমে তল্লাশিকালে তার জুতার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার এবং দেহ তল্লাশিতে ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণবার পাওয়া যায়। একই ফ্লাইটে আগত অপর যাত্রী মো. হাবিবুর রহমানের ব্যাগেজ ও দেহ তল্লাশি করে আরও ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণবার এবং ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়।  প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট যাত্রীর পাসপোর্টে ২০২৬ সালে পূর্বে ব্যাগেজ সুবিধায় স্বর্ণ আনার তথ্যও লিপিবদ্ধ রয়েছে।  এ অভিযানে মোট ৪৩৪ গ্রাম স্বর্ণ আটক করা হয়, যার শুল্ককরাদিসহ আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৮ লাখ ১২ হাজার টাকা। এক সপ্তাহে চট্টগ্রামে ৯০২ গ্রাম স্বর্ণ আটক: চোরাচালান প্রতিরোধে ধারাবাহিক সাফল্য উল্লেখ্য, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টা ও ধারাবাহিক নজরদারির ফলে গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে ৭০২ গ্রাম স্বর্ণবার এবং ২০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারসহ মোট ৯০২ গ্রাম স্বর্ণ আটক করা হয়েছে। চোরাচালানের বিরুদ্ধে কাস্টমস গোয়েন্দার কঠোর অবস্থান কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর মনে করে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে স্বর্ণ ও উচ্চমূল্যের পণ্যের অবৈধ প্রবেশ রোধে গোয়েন্দা নজরদারি, ঝুঁকিভিত্তিক যাত্রী শনাক্তকরণ এবং তাৎক্ষণিক অভিযানের গুরুত্ব অপরিসীম। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে একই দিনে পরিচালিত এই দুটি সফল অভিযান কাস্টমস গোয়েন্দার কর্মকর্তাদের সতর্কতা, পেশাদারত্ব ও দক্ষতার প্রতিফলন। রাজস্ব সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্তকরণে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।